আমাদের কার্যক্রম সমূহ:

চিকৎসা সেবা ও পূনর্বাসন
মাদকবিরোধী সচেতনতা ও প্রতিরোধ কার্যক্রম
বৃত্তিমৃলক প্রশিক্ষন
HIV/AIDS ও যৈানবাহিত রোগ সংক্রমন ও প্রতিরোধ কার্যক্রম
পাঠাগার ও গবেষনা কার্যক্রম

ভর্তির নিয়মাবলী

  • নিরাময় প্রক্রিয়ার মেয়াদকাল ০৪ মাস ।
  • ভর্তির নৃন্যতম ৪৫ দিন পর কেবল মাত্র অভিভাবক Client এর সাথে ফোনের মাধ্যমে কথা বলতে পারবেন এবং ৬০ দিন পর দেখা করতে পারবেন।
  • ভর্তির ফরমে যিনি অভিভাবক হিসাবে সই করবেন তিনি বা তার মনোনীত ব্যাক্তি ব্যাতিত অন্য কেউ Client এর সাথে দেখা করতে পারবেন না।
  • Client এর মাদক নির্ভরশীলতা ব্যাতিত অন্য যে কোন শারীরিক চিকিৎসার জন্য সংস্থার বাইরে চিকিৎসা করার প্রয়োজন হলে তার ব্যায়ভার অভিভাবককে বহন করতে হবে।
  • সংস্থায় অবস্থান কালীন সময়ে Client কোনরকম ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সামাজিক অনুষ্ঠান এবং অন্য কোন উৎসবে সংস্থার বাইরে যেতে পারবে না।
  • সংস্থায় অবস্থানকালীন সময়ে Client এর দ্বারা সংস্থার অন্য কোন Client এর কোনরকম ক্ষতিসাধিত হলে, তার ক্ষতিপৃরন Client/ অভিভাবককে পরিশোধ করতে হবে।
  • সংস্থায় অবস্থান কালীন সময়ে Client মৃত্যবরণ করলে, নিজের ক্ষতি করে বসলে বা সংস্থা পালিয়ে গেলে কোনভাবেই কর্তৃপক্ষ দায়ী করা যাবে না।
  • Client এর দ্বারা সংস্থার পরিবেশ নষ্ট হলে বা কর্তৃপক্ষের অবাধ্য হলে Client কে সংস্থা থেকে বহিস্কার করা হবে।
  • কেন্দ্রে অবস্থানকলীন সময়ে পুলিশ বা যে কোন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেশের প্রচলিত আইন ভঙ্গের যথোপযুক্ত প্রমানাদি উপস্থাপনপৃর্বক Clientকে তাদের কাছে হস্তান্তর করতে অনুরোধ করলে কতৃপক্ষ তা করতে বাধ্য থাকবে। এক্ষত্রে হস্তান্তরের পৃর্বে অভিভাবককে জানানো হবে।

মাদক নির্ভরশীলতার লক্ষন এবং উপসর্গ

১. হঠাৎআচার আচারনে পরিবর্তন ।
২. একা একা সময় কাটানো ।
৩.বন্ধু পরিবর্তন।
৪.হঠাৎ করে খরচ বেড়ে যাওয়া।
৫.অসময়ে বা গভীর রাতে বাড়ী ফেরা এবং অন্যদের কাছে মাদক ব্যাবহার কথা গোপন করা।
৬. সব সময় ঘুম ঘুম ভাব অথবা ঝিঁমুনি।
৭. অল্পতে রেগে যাওয়া।
৮. কথাবার্তা জড়িয়ে যাওয়া।
৯. চোখের নিচে কালিপড়া,অস্থিরতা।
১০. পড়াশোনায় ও খেলাধৃলায় অমনোযোগীতা।
১১. খাওয়াতে অরুচি, অল্প খেয়ে উঠে য়াওয়া এবং মাঝে মাঝে বমি করা।
১২.স্কুল/ কলেজ না যাওয়া এবং স্কুল/ কলেজ যাবার নাম অন্যএ সময় কাটানো।
১৩. হঠাৎ করে মিষ্টি খাওয়ার প্রতি ঝোঁক সৃষ্টি।
১৪.অনিদ্রা এবং খুক খুক করে কাঁশি হওয়া।
১৫. বাথরুমে অনেক সময় কাটানো।
১৬. সকালে তাড়াহুড়ো করে প্রায়ই বেড়িয়ে পড়া।
১৭ পোষাকের ব্যাপারে অমনযোগী। ছেঁড়া নোংরা পোষাক পরতেও আপত্তি না করা।
১৮. গোসল না করা, দাঁত না মাজা, নোংরা থাকা।
১৯.ঘরের টাকা পয়সা , জিনিসপত্র প্রায়ই উধাও হয়ে যাওয়া।
২০. ক্রমাগত মিথ্যা কথা বলার প্রবনতা,
২১. ডান বা বাম হাতরে আঙ্গুলে আগুনের পোড়া দাগ ।
২২.হঠাৎ করে নাক, চোখে দিয়ে পানি পড়া, ভীষনভাবে ছটফট করা, অথবা জ্বর জ্বর ভাব।
২৩.দেরী করে ঘুম থেকে উঠা, অসময়ে বিছানায় শুয়ে থাকা
২৪.বাড়ীর বিভিন্ন জায়গায় পোড়া কাগজ, ব্লেড, ম্যাচের কাঠি পাওয়া।
২৫. শরীরের বিভন্ন জায়গায় সৃঁচ ফোটানোর দাগ।
২৬. ঘন ঘন নাক চুলকানো।
২৭.একা একা খাওয়ার প্রবনতা।
২৮.অতিরিক্ত কথা বলা বা অসংলগ্ন কথা বলা।

মাদক নির্ভরশীলতা দূরীকরণে যা প্রয়োজন

আমাদের দেশে মাদক নামক এক ভয়ংকর দানবের বিস্তৃতি সবার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহর-গ্রাম, উচ্চবিত্ত-মধ্যবিত্ত-নন্মিবিত্ত, শিক্ষীত-অশিক্ষীত,বেকার-কর্মজীবি, স্কুল-কলজে বিশ্ববিদ্যলয় সর্বত্র এই মাদকের উপস্থিতি পরিবার-সমাজ এবং সারা দেশকেই ক্ষতিগ্রস্থ

করছে।প্রচন্ড শক্তিশালী মাদকের ধ্বাংসত্মক কালো থাবায় এ দেশের এক বিরাট জনগোষ্ঠী দিশেহারা।উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, কোমলমতি শিশু এবং তরুনীদের মধ্যে মাদক গ্রহনের প্রবনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদরে দেশে আনুমানিক  ৬০-৭০ লক্ষ্য ব্যাক্তি মাদকের এই মরন নেশায় জর্জরিত। সুতরাং প্রতিরোধ ও প্রতিকার করতে না পারলে বিপর্যয় অবশ্যম্ভাবী। মাদক নির্ভরশীলতা খুব সাধারন ভাবে দেখার কোন সুযোগ নেই।মাদক নির্ভর শীল ব্যাক্তি সম্পর্কে আমাদের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গী বা মৃল্যায়ন এই সমস্যাকে আরো জটিলতর করে তুলেছে। সম্পৃন্য মানবিক এই সমস্যার কারণ, গভীরতা, ব্যাপ্তি ইত্যাদী সম্পর্কে নতুন মৃল্যায়ন এবং উপলব্ধি সমাধানের নতুন সুযোগ সৃস্টি করতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) মাদকনির্ভরশীলতাকে একটি রোগ হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। মাদকনির্ভরশীলতা নামক এই জটিল অসুস্থতা  এইডস, ক্যান্সার ডায়াবেটিস বা হার্টের অসুখের থেকে কোন অংশেই কম গুরত্বপৃর্ন নয়। নিজের ক্ষতি হচ্ছে জেনেও মাদক ব্যবহারকে বন্ধ বা নিয়ন্ত্রন করতে পারে না বলে “নিয়ন্ত্রণহীনতা” আসক্তি নামক অসুস্থতার একটি প্রধান লক্ষ্যণ। মাদক ব্যবহারের কারণে সৃষ্ট সমস্যা  এবং পরিবার ও সমাজের নেতিবাচক মন্তব্য তাদের নিজেদের অজান্তেই মাদকনির্ভরশীল ব্যাক্তিদের আরো গভীরভাবে নেশায় জড়িয়ে পড়তে গভীরভাবে প্ররোচিত করে। তাই মাদকনির্ভরশীলতা হতে ফিরিয়ে আনতে ব্যাক্তির জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কর্মসৃচী। দীর্ঘ  সময় ধরে অনেক ব্যাক্তি এই চিকিৎসা সেবা গ্রহন করে সুস্থ সুন্দর স্বাভাবিক জীবন যাপন করছে। চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের উদ্দেশ্য হলো ব্যাক্তির সামগ্রিক সুস্থতা (Whole Person Recovery) অতএব সুস্থতা হচ্ছে=নেশাবন্ধ+বৃদ্ধি(আত্মউন্নয়ন)

“সুখ দুখ কোনটাই চিরস্থায়ী নয়”